কলেজে নানা অনিয়ম, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ

শাহজাহান হেলাল,মধুখালী প্রতিনিধি :
উপজেলার কুড়ানিয়ার চর গ্রামে অবস্থিত হাজী আঃ রহমান আঃ করিম কলেজে নানা অনিয়ম ও অনৈতীক কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মূলতঃ এ সকল অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান। তিনি মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম আহবায়ক বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও মাগুরা সদর থানায় জঙ্গী তৎপরতা সংশ্লিস্ট বিস্ফোরক আইনে এবং মধুখালী থানায় প্রতীমা ভাঙ্গচুরের দুইটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডের আরও কিছু অভিযোগ লিখিত ভাবে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর প্রেরণ করেছেন এলাকাবাসী । কয়েক মাস আগেই চলতি গভর্ণিং বডির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাউকে না জানিয়ে গোপনে জামাত পন্থী কতিপিয় শিক্ষককে সাথে নিয়ে নতুন গভর্ণিং বডি গঠন করে অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দাখিল করেছেন। ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সহ কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকই এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কে বা কারা এই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তা তিনি প্রকাশ করেন নাই। জনৈক শিক্ষক কলেজে না থাকা স্বত্তেও তার নামে বেতনের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যাবহার, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে রশিদ বিহীন অতিরিক্ত অর্থ আদায় সহ তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ করা হয়েছে ঐ আবেদনে। জানা গেছে, কলেজে সাধারণতঃ জাতীয় দিবস সমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় না। শিক্ষক নিয়োগে জামাত পন্থীদের প্রাধান্য এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ঘূষ আদায়, কলেজ ক্যাম্পাসে জামাতের গোপন বৈঠক ও সহিংস কর্মকান্ডে ব্যবহৃত বোমা/ককটেল মজুদ, সরবরাহ এবং কলেজের কাজের নামে ঢাকা সহ অন্যান্য স্থানে দলের সভা সমাবেশে অংশ গ্রহনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাবলিক পরীক্ষার ব্যবহারিক অংশে ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা এবং লিখিত অংশে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নগদ টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহ করা হয় এই কলেজের বিএম শাখা কেন্দ্রে। এসব কাজে তিনি নিজস্ব জামাতপন্থী কতিপয় শিক্ষককে ব্যাবহার করেন। রশিদবিহীন সংগৃহীত এই অর্থ তিনি জামাতী রাজনৈতীক কাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহকারী শিক্ষকদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তারা এই কলেজের শিক্ষক নন। অথচ তখনও তাদেরকে শিক্ষকদের কক্ষে বসে থাকতে দেখা গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গভর্ণিং বডির সভাপতি এলাকার বাইরে থাকেন। সভাপতি সাহেবের ফোন নম্বর দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন।