শুধু পেট না সংযম হোক অন্তর, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের

রমজান সংযমের মাস। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই কি সংযম? সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত শুধু উপবাস থাকার নামই রোজা নয়। পানাহার ও ইন্দ্রীয় কামনা এবং চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পাকে পাপ থেকে বিরত রেখে অন্তরকে যাবতীয় অশুভ চিন্তা ও বৈষয়িক লোভ-মোহ থেকে মুক্ত করে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হওয়াই হচ্ছে প্রকৃত রোজা। এমন রোজাই শয়তানকে প্রতিহত করতে সক্ষম ও জাহান্নামের আজাব থেকে বাচার জন্য ঢালস্বরূপ।

☆ অন্তরের রোজা : রোজার ভিত্তি হচ্ছে অন্তরে সংযম পালন করা। রোজার উদ্দেশ্য আল্লাহভীতি অর্জন করা। অন্তরে আল্লাহভীতিই হলো সব ইবাদতের মূল। পাপীর অন্তর যদি সিক্ত না হয় ঈমানের রসে, তাহলে পাপাচার ও কামাচারের মতো রিপুর নিয়ন্ত্রণ করা কখনও সম্ভব নয়।

☆ পেটের রোজা : পেটের রোজা হচ্ছে পেটকে হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে বাঁচিয়ে রাখা। সাহরি ও ইফতারে পরিমিত আহার করা। হালাল খাবার হলেও অতিরিক্ত আহার না করা এবং হারাম জিনিস বর্জন করা। রোজার বাইরেও অতিরিক্ত আহার খাবারের সময় পরিবর্তন ছাড়া কিছুই না। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় রমজানে যত খাওয়া হয় অন্য মাসে তত খাওয়া হয় না। মূলত রোজার বিশুদ্ধতা নির্ভর করে পেটের রোজার ওপর।

☆ জিহবার রোজা : জিহ্বাকে অনর্থক কথা-বার্তা থেকে সংযত ও গোনাহের কথা-কাজ থেকে বিরত রাখাই হচ্ছে জিহবার রোজা। অশ্লীল কথা, মন্দ ব্যবহার ও মিথ্যা বলার দরুন অনেকের রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য রোজাদারকে কম কথা বলে বেশি বেশি তেলাওয়াত, জিকির, আল্লাহর সৃষ্টিকে নিয়ে গবেষণা, তওবা, তাসবিহ, দাওয়াত, তালিম ও অন‍্যান‍্য নেকের কাজে ব্যস্ত থাকা প্রয়োজন।

☆ চোখের রোজা : চোখ হলো মনের আয়না। যে কোনো গোনাহের কাজ করার আগে চোখ প্রথমে তা দেখে এবং পরে মনকে প্রলুব্ধ করে। তাই চোখের হেফাজত করা মানেই মনের হেফাজত করা। অশ্লীল, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে চোখের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখা এবং ভালো কাজের প্রতি চোখ খুলে রাখা ও দেখাই হচ্ছে চোখের রোজা।

☆ কানের রোজা : ভালো কথা, হেদায়েতের কথা, কল্যাণের কথা শোনা এবং মন্দ কথা, অশ্লীল গান-বাজনা যথাসম্ভব কানে প্রবেশ না করানোর চেষ্টা করাই হচ্ছে কানের রোজা।

☆ পায়ের রোজা : পায়ের রোজা হচ্ছে পাকে বিপথগামী না করা। অর্থাৎ পাপাচারের পথে, খারাপ পথে পা না বাড়িয়ে শান্তি, কল্যাণ এবং হেদায়েতের পথে বেশি বেশি পা বাড়ানো।

☆ হাতের রোজা : হাত দিয়ে কোনো পাপের কাজ বা মানুষের ক্ষতি হয় এমন কাজ না করাই হাতের রোজা। আল্লাহ হাত দিয়েছেন উপকার, সাহায্য, দান-ছাদকা, সৎ কাজ, মুনাজাত করার জন্য। জিনিসপত্রে ভেজাল মেশাতে, ওজনে কম, মারামারি-খুনাখুনি, অসৎ উপায় অবলম্বন, কলমের আঁচড়ে দুর্নীতি বা জুলুম করার জন্য নয়।

দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই আল্লাহর পবিত্র আমানত। যার যথাযথ ব্যবহার করা প্রতিটি রোজাদারের আবশ্যক দায়িত্ব। নচেৎ আমাদের অন্যায় ও পাপাচারের জন্য রোজ হাশরে এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, যার পরিণতি হবে জান্নাত নয় জাহান্নাম। মহান আল্লাহ্ আমাদের উল্লেখিত সঠিকভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাধ্যমে নিজেদের দুনিয়া আখেরাতের নাজাত ও জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন

লেখক- ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান
ডীন, ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফরিদপুর

উপদেষ্টা, fccbl, ফরিদপুর;
শিক্ষা উপদেষ্টা, ক‍্যাব, ফরিদপুর জেলা শাখা
ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব, ফরিদপুর।